1. editor@jagratajanata24.com : editor :
  2. info@holyit.net : jjanata24 :
  3. admin@gmail.com : newsjjanata24 :
চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চিৎকার দিয়ে জাগানোর এখনই সময় - জাগ্রত জনতা ২৪
বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
হেড লাইন :
তালতলীতে এসসিএমএফপি’র অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত আমতলীতে পারিবারিক সংঘর্ষে অসুস্থ্য বৃদ্ধের মৃত্যু! কলাপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার দুই ভ‚য়া ডাক্তাতের কারাদন্ড কুয়াকাটায় পৌরসভা নির্বাচনে কে হচ্ছে নৌকার মাঝী।। আ’লীগের মেয়র প্রার্থী বাছায়ে তৃণমূলের ভোট কলাপাড়ায় নির্মান শ্রমিকদের বন্ধু সভা আমতলীতে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কৃষক লীগের সভা অনুষ্ঠিত মির্জাগঞ্জে শিক্ষককে পেটালেন যুবলীগ নেতা দীপ্ত টিভিতে আসছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘‌মাশরাফি জুনিয়র‘‌ গলাচিপায় অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে স্বপন দত্ত গলাচিপায় জরাজীর্ণ ঘরে অসহায় আনোয়ার হোসেন

চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চিৎকার দিয়ে জাগানোর এখনই সময়

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৩ বার পঠিত

গুরুদাসপুর(নাটোর)প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চলমান বিলের নাম চলনবিল। নওগাঁ,পাবনা,সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার ১৩টি উপজেলার সমন্বয়ে এই চলনবিলা ল গঠিত।

ছোট বড় ১৬টি নদী ও অসংখ্য শাখা নদী এবং খাল এ বিলের সাথে সংযুক্ত। এক সময় ভর বছর চলনবিলে পানির প্রবাহ থাকলেও বর্তমানে তার জৈলুস আগের মতো নেই। পালি মাটি জমে বিলের গভীরতা ও বিস্তৃতি দু’টোই কমেছে। এর সাথে অপরিকল্পিত সড়ক,ব্রীজ,প্রবাহিত নদী-শাখা নদীগুলোতে স্থায়ী-অস্থায়ী বাঁধ নির্মানের ফলে চলনবিলে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পানির প্রবাহ। নানাবিধ কারনে চলনবিল যেমন মরতে বসেছে তেমনি এ বিলকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য পরেছে অস্তিত্ব সংকটে।

মিঠা পানির মাছভান্ডার খ্যাত চলনবিল এ অ লের মানুষের মাছের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ একাই পূরণ করে। এ বিলে এক সময় শোল, গজার, বোয়াল, কৈ, শিং, টাকি, গুচি,বাইম,গুজা,চিংড়ি,টেংরা,পুঁটি,চেলা,খইড়া,খলিসা,পাতাসী,চান্দা,ভেদা ইত্যাদি প্রজাতির মাছ হাত বাড়ালেই পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে এরইমধ্যে অনেক মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে। অনেক প্রজাতি হুমকির সম্মুখিন আবার অনেক মাছ অস্তিত্ব সংকটে।

এক সময় বিল পাড়ের মানুষের জীবন জিবিকার প্রধান উৎস ছিলে মাছ শিকার। বর্তমানে এ অ লের মানুষ মাছের প্রজনন বৃদ্ধি না করে নিজেদের প্রয়োজন আর চাহিদা মেটাতে নানা কৌশলে মা মাছ নিধন করছেন। এতে মাছের উৎপাদন কমেছে বলে মাছ নির্ভর মানুষ বাধ্য হয়েছে ভিন্ন পেশা বেছে নিতে। এখন সময় এসেছে এ অ লের মানুষের জিবন-জীবিকার প্রয়োজনে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। বিলুপ্তির তালিকায় থাকা মাছগুলো রক্ষা করা।

চলনবিলে একসময় মাছকেন্দ্রিক গাংচিল,বালিহাঁস,ত্রিশূূল, বাটুলে, কাদা খোচা, নলকাক, ডাহুক, বক, রাতচোরা, পানকৌড়ি, মাছরাঙ্গা, শালিকসহ হরেক প্রজাতীর পাখির অবাধ বিচরণ ছিলো। মাছের উৎপাদন কমেছে বলে খাদ্য সংকটে থাকা এ বিলে আগের মতো পাখির কলকাকলি চোখে পরে না।

অস্তিত্ব সংকটে স্বল্প প্রজাতি টিকে থাকলেও অসাধু শিকারীর লোলুপ দৃষ্টি,কীটনাশকের ব্যবহার,বাসস্থান সংকটসহ নানা কারনে চলনবিলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী পাখির সাথে জীব-বৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে।
চলনবিলের মাছ,পাখি অস্তিত্ব সংকটে তা কিন্তু নয়। এ বিলের কীটপতঙ্গ, কেঁচো,শামুক, সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, ঝিনুক,কচ্ছপ, জোঁকসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রানীর অস্তিত্ব হুমকীতে।

এক সময় চলনবিলে এদের সহজাত চলাচল থাকলেও বর্তমানে বিপন্নের দিকে ধাবমান। ওদের সাথে জীববৈচিত্র্যও হুমকির সম্মুখিন। শুধু জলজ প্রানীই নয় জলজ উদ্ভিদের মধ্যে পদ্ম,শাপলা,শালুক,চ্যাচর,বিন্যা,ভাত শোলা,শ্যাওলা,ক্যাশাসহ হরেক প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ রয়েছে বিলুপ্তির তালিকায়।

প্রাকৃতির লাঙল খ্যাত কেঁচো ব্যাপক হারে জেলেদের মাছ শিকারের টোপ হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। এ কারনে বিলপাড়ে এক সময় কেঁচোর সহজলভ্য দর্শন মিললেও বর্তমানে এ প্রানীটিও অস্তিত্ব সংকটে পরেছে। জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কিটনাশক প্রয়োগ,যান্ত্রিক চাষাবাদ চলনবিলে কেঁচো সহজাত চোখে পরে না। সাম্প্রতিক সময়ে চলনবিলে ব্যাপকহারে চলছে শামুক নিধন। চলনবিল থেকে সংগৃহীত শামুক খামারীদের হাঁসের খাবার ও পুকুরে চাষ করা মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া ব্রয়লার ও গো-খাদ্যের ফিড তৈরীতে শামুক ব্যবহার হচ্ছে। বহুবিধ কারনে যেভাবে শামুক নিধন হচ্ছে তাতে করে সংরক্ষনের উদ্যোগ না নিলে আগামীতে শামুকের দেখা মেলাই ভার হবে।

মাছ,পাখি,কেঁচো,শামুকের মতোই চলনবিলে একসময় অবাধে বিচরন করা সাপ,ব্যাঙ, কাঁকড়া, ঝিনুক, জোঁকও বিপন্নের দিকে ধাবমান। চলনবিলে আগের মতো হরেক প্রজাতির বাহারী সাপ,কাঁকড়া,ঝিনুক চোখে পরে না।

চলনবিলবাসী নিজেদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আমরা এ বিলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ ধ্বংস করছি। এতে হুমকির মুখে পরেছে বিলের জীব বৈচিত্র্য। কৃষি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে বিভিন্ন প্রজাতির স্থলচর-জলচর-উভচর প্রাণী,পাখি ও সরীসৃপ। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন,আমাদের অসচেতনতা,অভায়াশ্রম না থাকা,নিধনের নিত্যনতুন অভিনব কৌশল, যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে চলনবিলের বিভিন্ন প্রজাতির উন্মুক্ত মিঠা পানির মাছ,পাখি,প্রাণী,সরীসৃপ নানা ধরনের জলজ উদ্ভিদ,জলজ সম্পদ বিলুপ্ত হতে বসেছে।

সচেতন বিলপ্রেমীদের দাবী, নিজেদের প্রয়োজনে আগামী প্রজন্মের চাহিদা মেটাতে চলনবিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিকল্প নেই। বিলপাড়ের মানুষের সচেতনা বৃদ্ধি,সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগ ও সরকারী সহযোগীতাই পারে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ বিলুপ্তির রোধ করতে। নিজেদের প্রয়োজনে সবাইকে চিৎকার দিয়ে জাগানোর এখনই সময়।

 

এ জাতীয় আরো খবর
Developed by