1. editor@jagratajanata24.com : editor :
  2. info@holyit.net : jjanata24 :
  3. admin@gmail.com : newsjjanata24 :
হাটহাজারীতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ - জাগ্রত জনতা ২৪
সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
হেড লাইন :
বরগুনা থানা পুলিশের উদ্দ্যোগে আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠিত আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত: শিক্ষিত ভালো ব্যাক্তি দিয়ে নতুন নেতৃত্ব চান সাধারণ জনগণ ৭ই মার্চ উপলক্ষে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প ও আলোচনা সভা ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ: বেতাগী থানা পুলিশের আনন্দ উদযাপন গলাচিপা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম মুকুলের মত বিনিময় সভা বাউফলে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালিত দশমিনায় থানা পুলিশের উদ্দ্যোগে আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠিত বান্দরবান পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে আনন্দ উদযাপন মায়ের সাথে অভিমান করে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা! আমতলীতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত

হাটহাজারীতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৫৩ বার পঠিত
মো. আবু শাহেদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া হচ্ছে না চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। এতে হতাশা ও ক্ষোভে ভুগছেন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটির স্থানীয় ছাত্রনেতারা। তৃণমূল ছাত্রনেতাদের ভাষ্য, সম্মেলনের মাধ্যমে হাটহাজারীতে ছাত্রলীগের কমিটি চাই। ক্ষোভে-হতাশায় সম্ভাবনাময় অনেক তরুণই ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। হবে, হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা, পৌরসভা, হাটহাজারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কমিটি। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ২১ (ক) ধারা অনুযায়ী, প্রতিবছর জেলা-উপজেলা, কলেজ শাখাগুলোর সম্মেলন করার কথা। ঠিক একইভাবে উপজেলা ও ইউনিট কমিটির মেয়াদ এক বছর। অথচ দেখা যায়, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টেনেটুনে চলে আরও কয়েক বছর। নির্দিষ্ট মেয়াদ, সে তো গঠনতন্ত্রের ‘অলঙ্কার’ কেবল।
এইভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে চলছে হাটহাজারী উপজেলা, পৌরসভা ও হাটহাজারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ কমিটি। সর্বশেষ ২০১৬সালের ৭ই জানুয়ারি উপজেলা ছাত্রলীগ, ২০১১সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি একই তারিখে গঠন করা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও একই ধারা বজায় থাকে। কমিটি গুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সম্মেলন আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে সহসাই জেলা থেকে নতুন কমিটি ঘোষণার ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে জোর গুঞ্জন রয়েছে। সম্ভাব্য এই কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা সক্রিয় রয়েছেন গ্রুপিং-লবিংয়ে। পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে মেরুকরণের পাশাপাশি জেলায় ও নেতাদের ধারে-ধারে গ্রুপিং-লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে কোন্দল কাটিয়ে দলে ঐক্য ও সংহতি ফিরিয়ে আনাটাকেই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।
কমিটি নিয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কলেজ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে নয় বছর আগে। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তিন মাস আগে সাধারণ সভা করতে হয়। কিন্তু কোন সভা করা হয়নি। কলেজ সরকারিকরণ করার সময় কলেজ ছাত্রলীগের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। তারা রাজপথে আন্দোলন মিছিল মিটিং করেছিল। এক্ষেত্রে কলেজ ছাত্রলীগের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কলেজে শিক্ষা বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতিতে কলেজ ছাত্রলীগ জড়িত ছিল না। বরং কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে গরীব অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হয়েছিল। কলেজে ছাত্রলীগের নিজস্ব কোন কার্যালয় নাই, নেই কোন ছাত্র সংসদ ! ছাত্র সংসদ করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলাম। যেহেতু বাংলাদেশে কোথাও কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি সেহেতু আমাদের এখানেও করতে পারিনি। আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এইচএসসি ও অনার্স শিক্ষার্থীদের ইয়ার ছাত্রলীগ কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুধু ডিগ্রীর কমিটি করা হয়নি। ইউপি নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের সময় দেশবিরোধী নানা সহিংসতার বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রলীগ ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পদবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। এর দায়ভার শুধু আমাদেরি, সেটা আমি স্বীকার করি। হাটহাজারী ছাত্ররাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে উত্তর জেলা ছাত্রলীগ।ঠিক তেমনি হাটহাজারী কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয় তারাই। তারা কেন কমিটি দিচ্ছে না সেটা আমার জানা নেই। আসলে এটা কলেজ ছাত্রলীগের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমি চাই খুব দ্রুত ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হোক। এতে পদবঞ্চিত, ত্যাগী, মেধাবী ছাত্ররা জায়গা পাবে। তাদের হাতেই নতুন ছাত্র নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। কিন্তু কেন সম্মেলন করলেন না জানতে চাইলে বলেন, সম্মেলন আয়োজনে আমাদের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। সম্মেলন করা আমাদের একমাত্র কাজ নয়। শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং তাদের সমস্যা সমাধান করা আমাদের প্রধান কাজ।
এদিকে হাটহাজারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাকেরিয়া চৌধুরী সাগর কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করেননি।
হাটহাজারী পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, পৌরসভা ছাত্রলীগ সব সময়ে রাজপথে সোচ্চার ছিল। চাঁদাবাজ, টেন্টারবাজ, কোন অছাত্র আমাদের কমিটিতে নেই। পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে দীর্ঘ নয় বছর আগে। আসলে পৌরসভা ছাত্রলীগ তো উত্তর জেলা ছাত্রলীগের আওতায় ইউনিট। উনারা চাইলে যেকোন মুহূর্তে কমিটি দিতে পারেন। কিন্তু আমরা চাই খুব শীঘ্রই সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দেওয়া হোক। পৌর ওয়ার্ড কমিটি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নেতাদের পছন্দ, অপছন্দের বিষয় ও নানা জটিলতার কারণে কমিটি দেওয়া হয়নি। আমি চাই সম্মেলনের মাধ্যমে হাটহাজারী পৌরসভা ছাত্রলীগ সৎ,যোগ্য ও মেধাবী ছাত্র নেতার হাতে তুলে দেওয়া হোক। যদি কোন অফিসে বসে রাতের আধারে কমিটি গঠন করা হয় তখন আমরা এ কমিটি মেনে নিব না। পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটি অছাত্র, চাঁদাবাজ, বিবাহিতদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। যদি সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা না হয় তখন আমরা ছাত্রলীগে গতিশীলতা আনার জন্য নতুন সম্মেলনের দাবিতে মাঠে সোচ্চার হবো। এবং ওই কমিটি প্রতিহত করতে রাজপথে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আন্দোলন করা হবে।
হাটহাজারী উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি, দুইটি পদ বহনকারী আরিফুর রহমান রাসেল বলেন, আমি গত ৭ই জানুয়ারি ২০১৬সালে হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের যাবতীয় প্রতিহিংসা প্রতিরোধ, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলন নামে রাজপথে নাশকতার বিরুদ্ধে আমরা হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছিলাম। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের ষড়যন্ত্র এর বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে নেমে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় কাজ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে নিয়ে জামায়াত নেতা প্রকাশ্যে নিজ ফেইসবুকে কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দিলে আমি তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে সহযোগিতা করি। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হাটহাজারী আওয়ামী পরিবারের অভিভাবক এমএ সালাম ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু করলে তখন আমরা কমিটি নিয়ে কাজ করব ইনশাল্লাহ।
হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান বলেন, আপনারা জানেন সারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আর হাটহাজারী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নয়। আমি প্রথমবার সাধারণ সম্পাদক হওয়ার এক বছর গত না হতেই সভাপতি এনাম প্রবাসে চলে যাওয়ায় পুনরায় রাসেলকে সভাপতি এবং আমাকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর পরপরই জামায়াত-বিএনপি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। তারপরে দেশবিরোধী নতুন চক্র হেফাজতে ইসলামের নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলাম। এ ছাড়াও কয়েকটি ইউনিয়নে ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়েছে। আরো বেশকিছু ইউনিয়নে কমিটি দেওয়া বাকি রয়েছে। সেগুলো আমরা ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি। উক্ত কমিটি গুলো সম্পন্ন করার জন্য জেলা ছাত্রলীগের পরামর্শ নিয়ে একটি সুন্দর সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে গঠনতন্ত্র মোতাবেক একটি মডেল ছাত্রলীগের নেতৃত্ব উপহার দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর। যদি কারো বাসায় ডাইনিংয়ে বসে ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী, কোন অছাত্র, কূছাত্র, অস্ত্র ও মাদক মামলার আসামিকে প্রাণপ্রিয় হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে আনা হয় তাহলে আমরা এ কমিটি মেনে নিতে পারবোনা। এ কমিটিকে আমরা প্রতিহত করতে রাজপথে সর্বদা সজাগ থাকবো। এবং পাল্টা কমিটি দেওয়া হবে। সুতরাং আমরা কোন পকেট কমিটি! বিএনপি-জামাত ঘরানা ছাত্রলীগ আমরা চাইনা। সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটি দেওয়া হলে আমরা তা বরণ করে নিব।
এ জাতীয় আরো খবর
Developed by