বরগুনার আমতলী–কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যানবাহনের ওপর অনিয়ন্ত্রিত দৌরাত্ম্য, মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে ওঠা, পরিবহন শ্রমিক–যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায়—সব মিলিয়ে পুরো রুটজুড়ে এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যটন ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন বাস, মিনিবাস, ট্রাক, মালবাহী গাড়ি ও পর্যটকবাহী যানবাহনকে এই বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এ রুটে চলাচলকারী বড় পরিবহনগুলোকে প্রায়ই থামিয়ে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ‘স্ট্যান্ড ফি’ বা ‘লাইন ফি’ আদায় করা হয়, যা স্থানীয়দের ভাষায় সরাসরি চাঁদাবাজি।
হঠাৎ ভাড়া বাড়ানো, অতিরিক্ত স্ট্যান্ড ফি আদায় এবং যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার কারণে যাতায়াত সময় দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।
কুয়াকাটাগামী পর্যটকদের অনেকেই জানান, পুরো রুটজুড়ে বিশৃঙ্খলা থাকায় তারা ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, বাজার ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আয় কমে যাচ্ছে।
পরিবহন মালিক ও চালকরা বলেন, বৈধ টোল ছাড়া কোনো ধরনের অর্থ আদায় আইনসম্মত নয়। নিয়মবহির্ভূত চাঁদাবাজি চলতে থাকলে পরিবহন খাত ভেঙে পড়বে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
যদিও মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়, কিন্তু তার স্থায়ী কোনো প্রভাব দেখা যায় না।
তাদের দাবি, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক সড়কটি পুরোপুরি নৈরাজ্যের দখলে চলে যাবে।