সর্বশেষ আপডেট
বরগুনায় স্বেচ্ছাসেবকদলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত  বেতাগীতে সৎ ভাইয়ের জমি জাল হলফনামা করায় সাবেক ইউপি সদস্য কারাগারে উপকূল বাঁচাতে সবুজের লড়াই, বরগুনায় পূবালী ব্যাংকের ২১শ’ বৃক্ষরোপণ বরগুনার সেই এসিল্যান্ড ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও লেটার করায় প্রত্যাহার পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মুখস্থের সাফল্য, ষষ্ঠ শ্রেণিতে গিয়ে কেন ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীরা? বরগুনায় এমইপি গ্রুপের সহযোগী সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংরক্ষিত বনে কেওড়া গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা মামলায় ইউপি সদস্যসহ ৫ জন জেলে তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নতুন সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান” উপকূল স্পেশালাইজড ডেন্টাল কেয়ারের উদ্যোগে বরগুনায় ওরাল হেলথ ও ডেন্টাল অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আর ডি এফ এর সেফগার্ডিং সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আমতলী–কুয়াকাটা সড়কে অটোরিকশার নৈরাজ্য

  • আপডেট হয়েছে : Saturday, December 6, 2025
  • 997 বার দেখেছেন

জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, বরগুনা :

বরগুনার আমতলী–কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যানবাহনের ওপর অনিয়ন্ত্রিত দৌরাত্ম্য, মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে ওঠা, পরিবহন শ্রমিক–যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায়—সব মিলিয়ে পুরো রুটজুড়ে এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

পর্যটন ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন বাস, মিনিবাস, ট্রাক, মালবাহী গাড়ি ও পর্যটকবাহী যানবাহনকে এই বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখে, ফলে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

অভিযোগ রয়েছে, এ রুটে চলাচলকারী বড় পরিবহনগুলোকে প্রায়ই থামিয়ে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ‘স্ট্যান্ড ফি’ বা ‘লাইন ফি’ আদায় করা হয়, যা স্থানীয়দের ভাষায় সরাসরি চাঁদাবাজি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিয়মিত যাত্রী বলেন, আমতলী এলাকার একটি রাজনৈতিক দলের এক প্রভাবশালী নেতার পুত্র—যিনি একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি ও স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত—এই পুরো নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে চাঁদাবাজির মাত্রা আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে বলে অভিযোগ।

হঠাৎ ভাড়া বাড়ানো, অতিরিক্ত স্ট্যান্ড ফি আদায় এবং যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার কারণে যাতায়াত সময় দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।

আমতলী ও কলাপাড়া অংশে প্রায়ই বাস–অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত কয়েক বছরে অটোরিকশা–সংক্রান্ত একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। সম্প্রতি মহাসড়কে একটি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৪ জন আহত হওয়ায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

কুয়াকাটাগামী পর্যটকদের অনেকেই জানান, পুরো রুটজুড়ে বিশৃঙ্খলা থাকায় তারা ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, বাজার ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আয় কমে যাচ্ছে।

ফেরিঘাট, এ.কে. স্কুল চৌরাস্তা, বড়চৌরাস্তা এবং বটতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার চাপ সবচেয়ে বেশি—যা নিয়মিত যানজট সৃষ্টি করছে।

পরিবহন মালিক ও চালকরা বলেন, বৈধ টোল ছাড়া কোনো ধরনের অর্থ আদায় আইনসম্মত নয়। নিয়মবহির্ভূত চাঁদাবাজি চলতে থাকলে পরিবহন খাত ভেঙে পড়বে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
যদিও মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়, কিন্তু তার স্থায়ী কোনো প্রভাব দেখা যায় না।

সচেতন মহলের মতে, মহাসড়কে অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন অপসারণ, এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা জরুরি।

তাদের দাবি, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক সড়কটি পুরোপুরি নৈরাজ্যের দখলে চলে যাবে।

স্থানীয়দের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং বৈধ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
শাহ্/জা/জ

এ বিভাগের আর খবর
Developed by:  ©২০২৬ জাগ্রত জনতা কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
error: Content is protected !!