অনলাইন ডেস্ক:
যত সময় যাচ্ছে ততই বাড়ছে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সংঘাতের আশঙ্কা। একে ওপরকে হুমকি দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়ছে আমেরিকা ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা। এই আবহে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মার্কিন যুদ্ধবিমান ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এগিয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছিল। এবার মধ্যপ্রাচ্যে আরও দুটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ পাঠালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে ইউএসএস নরফোক (একটি সাবমেরিন) এবং ইউএসএস সান দিয়েগো (এলপিডি-২২, একটি সান আন্তোনিও-শ্রেণীর উভচর পরিবহন ডক)। তিনটি জাহাজই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে মার্কিন-ইরান সংঘাতের অংশ হিসেবে, যেখানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। অন্যদিকে আমেরিকা তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে।
তিনটি জাহাজের শক্তি এবং কেন এগুলি গুরুত্বপূর্ণ?
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন (সিভিএন-৭২)
এটি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী জাহাজ। এটি একটি নিমিৎজ-শ্রেণীর জাহাজ, যা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজগুলির মধ্যে একটি।
এটি ৭৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান (যেমন F/A-18, F-35C) বহন করার ক্ষমতা রাখে
পারমাণবিক চুল্লির কারণে, এটি জ্বালানি ছাড়াই মাসের পর মাস সমুদ্রে থাকতে পারে
এর সম্পূর্ণ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ (CSG) বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার এবং সাবমেরিন নিয়ে গঠিত, যা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করতে পারে।
এটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। এটি পূর্বে দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থান করছিল, কিন্তু এখন এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে (ইরানের কাছে) স্থানান্তর করা হয়েছে। উত্তেজনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি বিমান হামলা, নজরদারি এবং প্রতিরক্ষার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইউএসএস নরফোক (SSN-714 অথবা SSN-815)
এটি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ভার্জিনিয়া-শ্রেণীর পারমাণবিক আক্রমণকারী সাবমেরিন। নরফোক নামটি ভার্জিনিয়ার নরফোক শহর থেকে এসেছে, যেখানে অবস্থিত বৃহত্তম মার্কিন নৌঘাঁটি।
এটি সম্পূর্ণ গোপনে চলাচল করতে পারে, শত্রুরা এটি সম্পর্কে জানতে পারে না।
এটি টর্পেডো এবং ক্রুজ মিসাইল (যেমন টমাহক) দিয়ে আক্রমণ করতে পারে, যা শত শত কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
এটি গোপনে শত্রু জাহাজ, সাবমেরিন এবং স্থল লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে।
এটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং শত্রুর উপর নজরদারি করতেও পারদর্শী।
ইরানের কাছাকাছি জলসীমায় গোপনে মোতায়েন করার মাধ্যমে এগুলি একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
৩. ইউএসএস সান দিয়েগো (এলপিডি-২২)
এটি একটি সান আন্তোনিও-শ্রেণীর উভচর পরিবহন ডক (উভচর জাহাজ) যার নামকরণ করা হয়েছে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি সান দিয়েগো শহরের নামে।
এটি সেনা, হেলিকপ্টার, অবতরণ জাহাজ এবং যানবাহন বহন করতে পারে।
এতে MV-22 Osprey (টিলট্রোটর), CH-53 হেলিকপ্টার এবং LCAC (হোভারক্রাফ্ট) অবতরণ এবং পরিচালনার সুবিধা রয়েছে।
এটি সমুদ্র থেকে স্থলে সেনা অবতরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। জলে ও স্থলে আক্রমণ করতে পারে।
এখানে চিকিৎসা সুবিধা, একটি কমান্ড সেন্টার এবং শতাধিক নৌ সেনার থাকার জায়গা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে এগিয়ে আসার কথা বলেছেন। নিজের সোশ্যাল মাধ্যম ট্রুথে তিনি জানিয়েছেন, সাহায্য আসছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভ দমন করতে তেগরান যে অভিযান চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের নিরাপত্তাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপরে হামলা বন্ধ করেছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে কিনা, পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।