অনলাইন ডেস্ক:
বান্দরবানে সেনাবাহিনী জেএসএসের (জনসংহতি সমিতির) সশস্ত্র সদস্যদের সাথে গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছে। একটি এসএমজি সহ প্রচুর পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় চাঁদাবাজির সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় উক্ত জেএসএসের সদস্য নিহত হয়েছে। সোমবার বিকেলে বান্দরবান–রুমা সড়কের মুরুং বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলটি প্রশাসনিকভাবে রোয়াংছড়ি উপজেলা-র তারাছা ইউনিয়নের অন্তর্গত হলেও রুমা উপজেলা সদরের কাছাকাছি।
নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল চারটার দিকে সড়কে গাড়ি থামিয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি চাঁদাবাজি করছিল। এ সময় বান্দরবান থেকে রুমার দিকে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টহল দল সেখানে পৌঁছালে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রথমে গুলি চালায়। পরে পাল্টা গুলি চালালে একজন গুলিবিদ্ধ হন।
রাত সোয়া ১১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-র ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল পাঁচটার দিকে মুরুং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল)-এর সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সেনাসদস্যরা অবৈধভাবে চাঁদা আদায়রত সশস্ত্র ব্যক্তিদের শনাক্ত করেন। একপর্যায়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে সেনা টহল দলের ওপর গুলি চালায়। পরে সেনাসদস্যরা পাল্টা গুলি চালিয়ে ধাওয়া করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামে এক সশস্ত্র জেএসএস সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), দুটি ম্যাগাজিন, এসএমজির ১৪৩টি গুলি ও পিস্তলের ১৪টি গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে পুলিশের সহায়তায় দ্রুত বান্দরবান সদর হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা দিলীপ চৌধুরী বলেন, সেনাবাহিনী একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
রোয়াংছড়ি থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাবের আহমেদ বলেন, একটি পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। সেনাবাহিনী জানায়, সশস্ত্র সদস্যদের অপতৎপরতা রোধে টহল জোরদার করা হয়েছে।