সর্বশেষ আপডেট

শ্রমজীবী মানুষের দুঃসহ জীবনযাপন: বরগুনায় কর্মসংস্থানের অভাব

  • আপডেট হয়েছে : Saturday, December 6, 2025
  • 589 বার দেখেছেন

জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, বরগুনা:

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় দিন দিন গভীরতর হচ্ছে কর্মসংস্থানের সংকট। শিল্প–কারখানা নেই, কৃষিতে অনিশ্চয়তা নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির প্রভাবে শ্রমজীবী মানুষের জীবন আজ দুঃসহ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে কাজের আশায় দাঁড়িয়ে থাকেন শত শত দিনমজুর। কিন্তু কাজ মেলে না। যে কাজ জোটে, তাতেও মজুরি কম এবং অনিশ্চয়তার মাত্রা বেশি।

জেলার প্রধান পেশা কৃষি হলেও ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিতে ফসল উৎপাদন কমে গেছে। মৌসুম শেষে কৃষিশ্রমিকদের জন্য আয়ের আর কোনো পথ খোলা থাকে না। একইভাবে মৎস্যশিল্পেও স্থবিরতা চলছে। নদী–সাগরে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বহু জেলে ও নৌযান শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

পৌর সুপার মার্কেটের সামনে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর আব্দুল হালিম বলেন, এক সময় সপ্তাহে পাঁচ–ছয় দিন কাজ পেতাম। এখন দুই দিন কাজ পেলেই ভাগ্যবান মনে করি। ঘরে বাচ্চাদের খাবার জোগাড় করতে না পারলে বুকটা হাহাকার করে—এ ব্যথা কারও বলার মতো না।

তালতলী উপজেলার নারী শ্রমিক জেসমিন বেগম জানান, ধান কাটার মৌসুম বাদে আর কোনো কাজ থাকে না। কখনো মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করি—তাতেও মজুরি খুব কম। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

জেলার ছয়টি উপজেলায় করা এক বেসরকারি জরিপে জানা গেছে, প্রায় ৪৫ শতাংশ শ্রমজীবী পরিবার বর্তমানে নিয়মিত আয়ের বাইরে রয়েছে। এ অবস্থায় পরিবারগুলো খাদ্যসংকট, ঋণের চাপ এবং নানান সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঢাকাসহ বড় শহরে পাড়ি দিচ্ছেন। তবে সবার পক্ষে সেই পথ খোলা নয়—বিশেষ করে নারী, প্রবীণ ও অদক্ষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সীমিত।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা হাসি বলেন, বরগুনায় ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষি–ভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হস্তশিল্প, নারীদের ঘরে বসে কাজের সুযোগ, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিটসহ স্থায়ী কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প জরুরিভাবে নেওয়া দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন জীবিকা কর্মসূচি চালু না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কর্মসংস্থানের অভাবে বরগুনার হাজারো শ্রমজীবী আজ মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়—নিয়মিত কাজ, ন্যায্য মজুরি এবং বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তা। কিন্তু উপকূলের এই দরিদ্র মানুষের কাছে সেই সামান্য প্রত্যাশাও আজ অধরা হয়ে উঠেছে।

শাহ্/জা/জ

এ বিভাগের আর খবর
Developed by:  ©২০২৬ জাগ্রত জনতা কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
error: Content is protected !!