সর্বশেষ আপডেট

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত

  • আপডেট হয়েছে : Monday, January 26, 2026
  • 184 বার দেখেছেন
অনলাইন ডেস্ক:
ভোটের মাঠের জনসভায় তারেক রহমানের পদচারণা আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনব, নতুনত্ব, সৃজনশীল, ইতিবাচক ও বাস্তবধর্মী বক্তব্যে দেশের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লার তিনটি জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যে একদিকে যেমন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা ওঠে এসেছে অন্যদিকে নতুনত্ব ও আধুনিক বক্তব্য বদলে দিয়েছে আমজনতার ধারণা।
কেবল তা-ই নয়, সাদামাটা ভঙ্গিমায় নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে ওঠার আগে মানুষের সঙ্গে হাত মেলানো এবং মঞ্চে ওঠে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সাধারণ চেয়ারে বসা সহ কোন ডায়াস ব্যবহার না করেই মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কথা বলা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দলের পরিকল্পনার কথা জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করে প্রশংসায় ভাসছেন তারেক রহমান। দেশের রাজনীতিতে অতীতে এমন দৃশ্য কখনোই দেখা যায়নি। গতানুগতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে তিনি তুলে ধরছেন আগামীর বাংলাদেশের আধুনিক ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির রূপরেখা। কুমিল্লার তিনটি জনসভা সভায় তারেক রহমানের উত্থাপিত বক্তব্য বিএনপির তৃণমূলের রাজনীতিতে লক্ষণীয় পরিবর্তন যেমন সৃষ্টি করেছে, তেমনি দলীয় প্রধানের সরাসরি বক্তব্য শোনার সুযোগ পেয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই হাঁটছেন তাঁদের জেষ্ঠ্য সন্তান তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণায় তারেক রহমানের বক্তব্য ও অনেক পদক্ষেপ, পরিকল্পনা নতুনত্বের ছাপ রেখে কেবল দলীয় নেতাকর্মীই নয়, আমজনতার নজর কেড়েছে। গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রচারণার বাইরে আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মঞ্চ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বক্তব্যের ধরণ, প্রতিশ্রæতি, কর্মপরিকল্পনা সহ সবকিছুতেই নতুনত্ব এনেছেন তারেক রহমান। মঞ্চে হেঁটে হেঁটে কথা বলা, জ্যেষ্ঠ নেতাদের সম্মান দেওয়া, কথার ফাঁকে জনসভায় উপস্থিত জনতার সঙ্গে মজা করা, প্রশ্ন করা সহ অন্যান্য বিষয়গুলো ছিল অসাধারণ। তাঁর কথাবার্তায় ছিল না আমাদের চিরচেনা রাজনৈতিক কৃত্রিমতা। এছাড়াও তারেক রহমানের বক্তব্যে কাউকে নিয়ে কোনো তিক্ততা বা প্রতিহিংসামূলক শব্দ ছিল না।
তিনি কুমিল্লার তিনিটি জনসভাতেই বলেছেন, কোন দলের বিরুদ্ধে কথা বলা বা বিষোদগার করা, গিবত করে সময় নষ্ট করতে চান না, আর এসব বললে জনগণের কোন উপকারে আসবে না। বরং রাষ্ট্র ও জনগণ নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা ও ভাবনা মানুষের কাছে তুলে ধরাটাই বড় কথা। তারেক রহমানের এরকম বক্তব্য ও জনসভা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছে। আবার তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষা, নারীদের সাবলম্বী করে গড়ে তোলা, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং কৃষির উন্নয়নে  খাল খনন কর্মসূচির আধুনিক সংস্করণ নিয়ে কথা বলছেন। মসজিদের ইমাম-খতিবদের জন্য সম্মানজনক ভাতা এবং সামাজিক মর্যাদার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তাঁর এই পলিসি বেইজড পরিকল্পনা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আকষ্ট করেছে।
জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও দেশ নিয়ে ভাবনা আসন্ন নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মনযোগ আকর্ষণে তারেক রহমানের বক্তব্যে নতুনত্ব ও আধুনিক চিন্তাধারা ধানের শীষের পক্ষে বড় গণজোয়ার তৈরি করতে পারে।
কুমিল্লা দক্ষিণের ৬টি সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, ‘কুমিল্লার তিনটি জনসভায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। তাঁর অসাধারণ বক্তব্য, দেশ ও দেশের মানুষ নিয়ে ভাবনা, পরিকল্পনা অত্যন্ত সাবলীর ভাষায় তিনি তুলে ধরেছেন। তারেক রহমানের বক্তব্যে মানুষকে রাষ্ট্রগঠনের পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দর ও বাস্তবিকভাবে ফুটে ওঠেছে। যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও করে গেছেন। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্র পরিচালনার আধুনিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। আমরা আশাবাদী, কুমিল্লার তিনটি জনসভায় তারেক রহমানের বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রার্থীদের জয়ের বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে। একইসঙ্গে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য ও দিক নির্দেশনা ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রেরণা যুগিয়েছে।’
এ বিভাগের আর খবর
Developed by:  ©২০২৬ জাগ্রত জনতা কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
error: Content is protected !!