অনলাইন ডেস্ক:
ইরান মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য অজুহাত তৈরি করতে চেষ্টা করছে। দেশের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘কঠোর পদক্ষেপ’ হুমকির প্রেক্ষিতে এই অভিযোগ করা হয়।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পোস্টে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নীতিমালা এবং কৌশল মূলত ইরানে ‘ক্ষমতার পরিবর্তন’ ঘটানোর উদ্দেশ্যে গৃহীত। নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, পরিকল্পিত অস্থিরতা সৃষ্টি এবং বিশৃঙ্খলা—সবই এই কৌশলের অংশ। ইরান সতর্ক করে বলেছে, এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
২০২২ সালের পর এই প্রথম, ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদ থেকে শুরু হলেও দ্রুত এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক রূপ ধারণ করেছে। ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে—বিশেষত যুক্তরাজ্যের লন্ডনে—এ ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানে সরকারের সমর্থকরা ও বড় বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন।
দুই সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতা দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারে এবং ‘সাহায্য আসছে’।
গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকেই ইরান আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই চাপের মধ্যে দেশের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ইরান সরকার এসব বিক্ষোভে ‘অস্থিরতা উসকে দেওয়ার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে দায়ী করছে। তথ্যসূত্র : এএফপি