বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:
সংরক্ষিত বনে কেওড়া গাছ কাটা, রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা মামলায় ইউপি সদস্যসহ ৫ জন জেলেসংরক্ষিত বনভূমিতে ঢুকে কেওড়া গাছ কাটা, মাটি খনন করে রাস্তা তৈরি এবং পাকা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পাঁচ অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমতলী চৌকি আদালতের বিচারক ইফতি হাসান ইমরান তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জেলহাজতে পাঠানো পাঁচজন হলেন মাসুদ খা (৫০), ইউপি সদস্য শহীদ আকন (৩৫), সবুজ ফকির (৩০), কুডি মোল্লা (৫০) এবং নেকিয়ার (৩৪)।
মামলার বাদী সাকিনা বন বিটের বন কর্মকর্তা রাহিমুল ইসলাম জুমেল। আদালতে দেওয়া অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৬ এপ্রিল বিকেল তিনটার দিকে নিদ্রারচর এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সংরক্ষিত বনভূমির ভেতরে কয়েকজনকে কেওড়া গাছ কাটতে দেখা যায়।
একই সঙ্গে সেখানে মাটি কেটে রাস্তা তৈরি এবং ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড দিয়ে বসার জন্য পাকা বেঞ্চ নির্মাণের কাজও চলছিল।
বনকর্মীরা এগিয়ে যেতেই অভিযুক্তরা ‘ফরেস্টার আসছে’ বলে চিৎকার করে পাশের গ্রামে পালিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি কেওড়া গাছের গোড়া, ১০ দশমিক ৬৮ ঘনফুট কেওড়া গোলকাঠ, একটি করাত, একটি কোদাল এবং বেঞ্চ নির্মাণে ব্যবহৃত ইট, বালু, সিমেন্টের খালি বস্তাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে জব্দতালিকা ও ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্রও প্রস্তুত করা হয়।
বন বিভাগের অভিযোগ, অভিযুক্তরা সংরক্ষিত বনভূমি দখলের উদ্দেশ্যে মূল্যবান বনজ গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় The Forest Act, 1927 (২০০০ সালে সংশোধিত)-এর ২৬(১)(খ), ২৬(১)(ঘ) ও ২৬(১এ)(ঙ) ধারায় মামলা করা হয়েছে।