সর্বশেষ আপডেট
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নতুন সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান” উপকূল স্পেশালাইজড ডেন্টাল কেয়ারের উদ্যোগে বরগুনায় ওরাল হেলথ ও ডেন্টাল অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আর ডি এফ এর সেফগার্ডিং সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ চূড়ান্ত হলো ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দল, কোন গ্রুপে কে? কেএসডিও দিলো ২০০ পরিবারকে ইফতার সামগ্রী পাকিস্তানের সামনে আজ যে কঠিন সমীকরণ ঢাকা ও নরসিংদীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জাতি স্তম্ভিত: জামায়াত আমির রামপুরায় শিশু হত্যা: বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস নাহিদ ইসলামের

বরগুনার কৃষিতে বহুমাত্রিক আবাদ এখন সময়ের দাবি

  • আপডেট হয়েছে : Saturday, December 6, 2025
  • 817 বার দেখেছেন

জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা,বরগুনা:

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় যুগ যুগান্তর ধরেই এক ফসলি কৃষি প্রধান ছিল। লবণাক্ততা, সেচ সংকট, খরা ঝুঁকি ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বছরের অধিকাংশ সময় বিস্তীর্ণ জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। ফলে কৃষি উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় জেলাটি এখনো পিছিয়ে। কৃষিবিদদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় এই চিত্র দ্রুত বদলানো সম্ভব।

জেলায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে, যার বড় অংশ লবণাক্ততার কারণে তিন মৌসুমে ব্যবহার করা যায় না। এখনও ধানই প্রধান ফসল; তবে গম, মুগ, সরিষা, তিল, সূর্যমুখী ও সবজির আবাদ সীমিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লবণ সহিষ্ণু ধান ও বোরো চাষ বাড়ছে, কিন্তু রবি ফসলের বিস্তার প্রত্যাশার তুলনায় কম।

কৃষকেরা বলছেন, বাড়তে থাকা লবণাক্ততা, সেচব্যবস্থার দুর্বলতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাবই বহুমাত্রিক আবাদে প্রধান বাধা। সাম্প্রতিক জোয়ার চাপ, নদী ভাঙন ও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের কারণে বহু জমি লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হয়ে আরও অনাবাদি হয়ে পড়েছে। অপরিকল্পিত স্লুইসগেট ও খাল পুনঃখনন না হওয়ায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে না।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লবণ সহিষ্ণু ধান, গম ও মুগের নতুন জাত পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করেছে। উঁচু বেডে সবজি চাষ, জমি সমতলীকরণ ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, “বরগুনার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, লবণ সহিষ্ণু জাত ও ফসল বৈচিত্র্য বাড়ানো গেলে এক ফসলি জমিকেও দুই বা তিন ফসলি চাষে রূপান্তর করা সম্ভব।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার, ভূমিমালিক ও কৃষকের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরগুনা শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই হবে না, উপকূলীয় কৃষির সফল মডেলও হয়ে উঠবে। বহুমাত্রিক আবাদ এখন বরগুনার কৃষির ভবিষ্যৎ পথ নকশা।

শাহ্/জা/জ

এ বিভাগের আর খবর
Developed by:  ©২০২৬ জাগ্রত জনতা কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
error: Content is protected !!