সর্বশেষ আপডেট
বরগুনায় স্বেচ্ছাসেবকদলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত  বেতাগীতে সৎ ভাইয়ের জমি জাল হলফনামা করায় সাবেক ইউপি সদস্য কারাগারে উপকূল বাঁচাতে সবুজের লড়াই, বরগুনায় পূবালী ব্যাংকের ২১শ’ বৃক্ষরোপণ বরগুনার সেই এসিল্যান্ড ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও লেটার করায় প্রত্যাহার পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মুখস্থের সাফল্য, ষষ্ঠ শ্রেণিতে গিয়ে কেন ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীরা? বরগুনায় এমইপি গ্রুপের সহযোগী সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংরক্ষিত বনে কেওড়া গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা মামলায় ইউপি সদস্যসহ ৫ জন জেলে তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নতুন সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান” উপকূল স্পেশালাইজড ডেন্টাল কেয়ারের উদ্যোগে বরগুনায় ওরাল হেলথ ও ডেন্টাল অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আর ডি এফ এর সেফগার্ডিং সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বরগুনার কৃষিতে বহুমাত্রিক আবাদ এখন সময়ের দাবি

  • আপডেট হয়েছে : Saturday, December 6, 2025
  • 1097 বার দেখেছেন

জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা,বরগুনা:

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় যুগ যুগান্তর ধরেই এক ফসলি কৃষি প্রধান ছিল। লবণাক্ততা, সেচ সংকট, খরা ঝুঁকি ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বছরের অধিকাংশ সময় বিস্তীর্ণ জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। ফলে কৃষি উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় জেলাটি এখনো পিছিয়ে। কৃষিবিদদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় এই চিত্র দ্রুত বদলানো সম্ভব।

জেলায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে, যার বড় অংশ লবণাক্ততার কারণে তিন মৌসুমে ব্যবহার করা যায় না। এখনও ধানই প্রধান ফসল; তবে গম, মুগ, সরিষা, তিল, সূর্যমুখী ও সবজির আবাদ সীমিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লবণ সহিষ্ণু ধান ও বোরো চাষ বাড়ছে, কিন্তু রবি ফসলের বিস্তার প্রত্যাশার তুলনায় কম।

কৃষকেরা বলছেন, বাড়তে থাকা লবণাক্ততা, সেচব্যবস্থার দুর্বলতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাবই বহুমাত্রিক আবাদে প্রধান বাধা। সাম্প্রতিক জোয়ার চাপ, নদী ভাঙন ও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের কারণে বহু জমি লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হয়ে আরও অনাবাদি হয়ে পড়েছে। অপরিকল্পিত স্লুইসগেট ও খাল পুনঃখনন না হওয়ায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে না।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লবণ সহিষ্ণু ধান, গম ও মুগের নতুন জাত পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করেছে। উঁচু বেডে সবজি চাষ, জমি সমতলীকরণ ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, “বরগুনার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, লবণ সহিষ্ণু জাত ও ফসল বৈচিত্র্য বাড়ানো গেলে এক ফসলি জমিকেও দুই বা তিন ফসলি চাষে রূপান্তর করা সম্ভব।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার, ভূমিমালিক ও কৃষকের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরগুনা শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই হবে না, উপকূলীয় কৃষির সফল মডেলও হয়ে উঠবে। বহুমাত্রিক আবাদ এখন বরগুনার কৃষির ভবিষ্যৎ পথ নকশা।

শাহ্/জা/জ

এ বিভাগের আর খবর
Developed by:  ©২০২৬ জাগ্রত জনতা কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
error: Content is protected !!