সর্বশেষ আপডেট
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নতুন সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান” উপকূল স্পেশালাইজড ডেন্টাল কেয়ারের উদ্যোগে বরগুনায় ওরাল হেলথ ও ডেন্টাল অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আর ডি এফ এর সেফগার্ডিং সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ চূড়ান্ত হলো ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দল, কোন গ্রুপে কে? কেএসডিও দিলো ২০০ পরিবারকে ইফতার সামগ্রী পাকিস্তানের সামনে আজ যে কঠিন সমীকরণ ঢাকা ও নরসিংদীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জাতি স্তম্ভিত: জামায়াত আমির রামপুরায় শিশু হত্যা: বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস নাহিদ ইসলামের

স্বামী-স্ত্রীর আদর্শ দাম্পত্য জীবন

  • আপডেট হয়েছে : Thursday, December 18, 2025
  • 162 বার দেখেছেন

মো. লোকমান হেকিম:

আল্লাহ যার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছে, তা সঠিক সময়ে আল্লাহ দিয়ে দিবে। শুধু মাত্র অপেক্ষা করতে হবে, ভরসা করতে হবে, একজনের উপর তিনি কে? একমাত্র আল্লাহ। পবিত্র বিবাহবন্ধনের মাধ্যমে দু’জন নারী-পুরুষের মাঝে দাম্পত্যজীবন ও পারিবারিক জীবনের সূচনা হয়। ইসলামী শরীয়তে এই সম্পর্ক কায়েম করতে হলে যেমন সুনির্ধারিত কিছু বিধান রয়েছে, তেমনি এ সম্পর্ক বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন পালন করতে হয়। আবার প্রয়োজনে এ সম্পর্ক ছিন্ন করতে হলেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলতে হয়। বিবাহের মাধ্যমে যে দাম্পত্য সম্পর্কের সূচনা হয়, তা অটুট থাকা এবং আজীবন স্থায়িত্ব লাভ করা ইসলামে কাম্য। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী কখনও বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করবে না এবং বিবাহ-বিচ্ছেদের পরিস্থিতিও সৃষ্টি করবে না।

কেননা, বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হলে, এর কুপ্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর উপর সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং গোটা পরিবারটিই তছনছ হয়ে যায়। সাধারণত বৈবাহিক সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার পিছনে মৌলিক যে কারণগুলো থাকে সেগুলো হল-স্বামী-স্ত্রী একে অপরের হক যথাযথ আদায় না করা, একজন অন্যজনকে গুরুত্ব না দেয়া, কথায়-কাজে অযথা লাগালাগি করা এবং একে অন্যের প্রতি আস্থা বা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। এ সকল কারণে একসময় তাদের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ চরমে পৌঁছে এবং দাম্পত্য জীবন ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কর্তব্য হল, পরস্পরের হকগুলো যথাযথভাবে জানা এবং তা আদায় করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা। কোনো ক্ষেত্রে দোষ-ত্রুটি হয়ে গেলে তা অকপটে স্বীকার করে নেয়া এবং অতি দ্রুত সেটাকে শুধরে নেয়া। এখানে স্বামী-স্ত্রীর আবশ্যকীয় শরয়ী হকসমূহ তুলে ধরা হল। তাদের জন্য এগুলো যথাযথভাবে পালন করা জরুরী।

স্বামীর ওপর স্ত্রীর আবশ্যকীয় হক সমূহ- স্ত্রীর সাথে সর্বদা সদাচরণ করা। স্ত্রীর কোনো কথায় বা কাজে কষ্ট পেলে মাথা গরম না করে ধৈর্যধারণ করা। স্ত্রী উচ্ছৃঙ্খলভাবে বা বেপর্দা চলাফেরা করতে থাকলে, হিকমতের সাথে নম্র ভাষায় তাকে বোঝানো। সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা। কথায় কথায় ধমক না দেওয়া এবং রাগ না দেখানো। স্ত্রীর আত্মমর্যাদায় আঘাত করে এমন কথা না বলা বা এমন কাজ না করা। শুধু শুধু স্ত্রীর প্রতি কুধারণা না করা। স্ত্রীর ব্যাপারে উদাসীন না থাকা। সামর্থানুযায়ী স্ত্রীকে উত্তম খোরপোষ দেয়া। তবে অপচয় করা যাবে না। যথাসাধ্য উত্তমভাবে স্ত্রীকে রাখার ব্যবস্থা করা এবং তার জন্য স্বতন্ত্র উত্তম আবাসনের বন্দোবস্ত করা। স্ত্রীকে নামায পড়া এবং দ্বীনের হুকুম-আহকাম মেনে চলার জন্য উৎসাহ দিতে থাকা। হায়েজ-নেফাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মাসআলাগুলো ভালোভাবে শিক্ষা দেয়া। শরীয়ত পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা।

একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে পরিপূর্ণভাবে সমতা বজায় রাখা। চাহিদানুয়ায়ী তাদের সাথে মেলামেশা ও প্রয়োজন পূর্ণ করা। অনুমতি ব্যতীত আযল না করা অর্থাৎ মেলামেশার সময় শেষ মুহূর্তে প্রয়োজন পূর্ণ হওয়ার পূর্বে ত্যাগ না করা। একান্ত নিরুপায় না হলে তালাক দেয়ার কল্পনাও না করা অথবা তালাক দিয়ে দিবো-এ ধরনের কথা না বলা। মাঝে মাঝে স্ত্রীকে তার নিকটাত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাত করার সুযোগ করে দেয়া। স্ত্রীর সাথে মেলামেশার কথা অন্যের কাছে বর্ণনা না করা। একান্ত প্রয়োজন হলে স্ত্রীকে শাসন করতে বা সতর্ক করতে পারবে। তবে শরীয়ত যতটুকু অনুমতি দিয়েছে, তার চেয়ে বেশী করা যাবে না। তাকে কখনো অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা কিংবা নির্দয়ভাবে মারপিট করা যাবে না। স্ত্রীর ওপর স্বামীর অপরিহার্য হক সমূহ- সর্বদা স্বামীকে খুশী করতে এবং তার মন জয় করার চেষ্টা করা। স্বামীর সাথে অসংযত আচরণ না করা। স্বামীকে কষ্ট না দেয়া।

শরীয়তসম্মত প্রত্যেক কাজে স্বামীর নির্দেশ মেনে চলা এবং তার আনুগত্য করা। গুনাহ ও শরীয়তবিরোধী কাজে অপারগতা তুলে ধরা এবং স্বামীকে নরম ভাষায় বোঝানো। প্রয়োজনাতিরিক্ত বা স্বামীর সাধ্যের বাইরে ভরণ-পোষণ দাবি না করা। পূর্ণরূপে পর্দা করা। পরপুরুষের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখা। স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে ঘরে ঢোকার অনুমতি না দেয়া। স্বামীর অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া বা কোথাও না যাওয়া। স্বামীর সম্পদের হিফাজত করা। অনুমতি ছাড়া সেখান থেকে কাউকে কোনো কিছু না দেয়া। স্বামীকে অসন্তুষ্ট করে অতিরিক্ত নফল নামাযে মশগুল না থাকা। স্বামীর সম্মতি ব্যতীত নফল রোযা না রাখা। স্বামী যে কোনসময় মেলামেশার জন্য আহবান করলে শরীয়তসম্মত উজর ব্যতীত কোনরকম আপত্তি না করা। স্বামীর আমানত হিসেবে নিজের ইজ্জত-আব্রুর হেফাজত করা। এতে কোনো ধরনের খেয়ানত না করা। স্বামী দরিদ্র বা অসুন্দর হওয়ার কারণে তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করা। স্বামীকে কোনো গুনাহের কাজ করতে দেখলে আদবের সাথে তাকে বুঝিয়ে বিরত রাখার চেষ্টা করা। স্বামীর প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। তার নাম ধরে না ডাকা। কারো কাছে স্বামীর বদনাম বা দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করা।

শ্বশুর-শাশুড়ীকে শ্রদ্ধা করা। যথাসাধ্য তাদের খিদমত করা। কটু কথা বলে বা ঝগড়া-বিবাদ করে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তাদের মনে কষ্ট না দেয়া। সন্তানদের হক আদায় করা। তাদেরকে উত্তমরূপে লালন-পালন করা। সুখী দাম্পত্য জীবন- দাম্পত্য জীবন এমনভাবে গড়ে তুলুন, যেখানে ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া থাকবে। শুধু সন্তানের জন্য একসঙ্গে থাকার বাধ্যবাধকতা নয়, বরং জীবনসঙ্গীর সাথেই শান্তি খুঁজে পাওয়ার এক অপরূপ সম্পর্ক। সন্তান যদি কখনো পৃথকও হয়ে যায়, স্বামী-স্ত্রী যেন পরস্পরের প্রতি সেই একই ভালোবাসা, নির্ভরতা ও আন্তরিকতা বজায় রাখতে পারেন। রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীদের প্রতি উত্তম আচরণ করে। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীদের প্রতি সবচেয়ে উত্তম আচরণকারী।’ (সুনান ইবনু মাজাহ : ১৯৭৭)। সুতরাং, দাম্পত্য জীবনকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যান যেখানে শুধু সন্তানদের জন্য নয়, বরং একে অপরের জন্যই বেঁচে থাকার আনন্দ থাকে।

এ বিভাগের আর খবর
Developed by:  ©২০২৬ জাগ্রত জনতা কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
error: Content is protected !!