বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের নাম আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ। আইজিপিকে অপসারণের দাবিতে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। এই সময়সীমা শনিবার দিবাগত রাতে শেষ জানিয়ে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা বলেছেন, আইজিপি বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এদিন সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর হাত ধরে রাজনীতিতে আসা শত শত ছাত্রদল ও যুবদল নেতা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসময় তারা ‘বিচার চাই-বিচার চাই, পিন্টু হত্যার বিচার চাই। ফাঁসি-ফাঁসি-ফাঁসি চাই, বাহারুলের ফাঁসি চাই। আমার ভাই কবরে খুনি কেন বাহিরে’সহ নানা স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাধীন তদন্ত কমিশন বিএনপি জামায়াত বা এনসিপি গঠন করেনি; এটি অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত কমিটি। সেই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক এসবিপ্রধান ও বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের নাম দেখে আমরা হতবাক। নতুন বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান হিসেবে তার নাম আসা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগ জনক।
এই মামলার পেছনে আইজিপি বাহারুলের সরাসরি ভূমিকা ছিল—আমরা সম্প্রতি তা জেনেছি। মানববন্ধনের পুরো সময় ‘বিচার চাই’, ‘বাহারুল অপসারণ চাই’— স্লোগানে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় জীবনের এক করুণতম অধ্যায় ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড যেখানে দেশের ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ অসংখ্য সদস্য নির্মমভাবে শহীদ হন। এখনও জাতীয় বেদনা ও বিচার প্রত্যাশার এক অমলিন স্মৃতি হয়ে আছে।
আলমের নাম উত্থাপিত হওয়ায় দেশের ন্যায়বিচার, জনআস্থা এবং বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তার নাম এমন একটি রাষ্ট্রদ্রোহী ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উল্লেখ হওয়া ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর করে তুলেছে। জাতির রক্তাক্ত স্মৃতি-বহনকারী এই ঘটনায় যে কোনও অভিযোগ, সংশ্লিষ্টতা, গাফিলতি বা দায়িত্বে ব্যর্থতা বিষয়ে পদে বহাল অবস্থায় থাকা ব্যক্তি অপরাধ বিচারের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জনবিশ্বাসের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্ত রিপোর্টে নাম আসায় বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমকে অবিলম্বে আইজিপি পদ থেকে অব্যাহতি/বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হোক। মামলার পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার ভূমিকা ও দায় নির্ণয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যাতে রাষ্ট্র ও জনগণ উভয়ে ন্যায়বিচারের বাস্তব প্রতিফলন অনুভব করতে পারে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দায়ীদের তালিকায় নাম আসায় বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে অপসারণ করতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।