অনলাইন ডেস্ক:
নামাজ এমন একটি বিধান যা কোনো অবস্থাতেই বাতিল হয় না—দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে বা ইশারায়—জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এর পালন অপরিহার্য। একজন মুসলিমের কাছে নামাজ কেবল কিছু শারীরিক ক্রিয়া নয়, বরং এটি আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম।
ইবাদতের এই শ্রেষ্ঠ মাধ্যমটি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে। কারণ, তিনি উম্মতকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১)
নামাজ এমন একটি বিধান যা কোনো অবস্থাতেই বাতিল হয় না—দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে বা ইশারায়—জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এর পালন অপরিহার্য। একজন মুসলিমের কাছে নামাজ কেবল কিছু শারীরিক ক্রিয়া নয়, বরং এটি আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম।
ইবাদতের এই শ্রেষ্ঠ মাধ্যমটি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে। কারণ, তিনি উম্মতকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১)
তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।
সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১)
এই নির্দেশনা মেনে চলার জন্য নামাজের প্রতিটি ধাপ, তাকবিরে তাহরিমা থেকে শুরু করে সালাম ফেরানো পর্যন্ত, রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী হওয়া আবশ্যক।
নামাজের পূর্ব প্রস্তুতি
নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত পবিত্রতা। এই পবিত্রতা অর্জনের জন্য প্রথমে উত্তমরূপে অজু বা অজু সম্পন্ন করতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে অজুর পদ্ধতি বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন, “হে ঈমানদারগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো। আর তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং গোড়ালি পর্যন্ত পা (ধৌত করো)।” (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)
রাসুল (সা.) বলেন, “পবিত্রতা ব্যতীত কোনো নামাজ কবুল হয় না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৪)
অজু সম্পন্ন করার পর মুসল্লিকে কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে। কাবার দিক হল কিবলা। নামাজে দাঁড়ানোর সময় মুসল্লি তার অন্তর দিয়ে যে নামাজটি পড়তে চান (ফরজ বা নফল), সেটির নিয়ত করবেন।
মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা ইসলামে বিধিবদ্ধ নয়। কেননা রাসুল (সা.) এবং তাঁর কোনো সাহাবি মুখে নিয়ত উচ্চারণ করেননি। (বিন বাজ, আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ, সিফাতু সালাতিন নবী (সা.) ৩-৪, দারুল মুগনি, রিয়াদ, ২০০২)।
এছাড়া, ইমাম বা একাকী নামাজ আদায়কারীর জন্য সামনে একটি সুতরাহ (আড়াল বা প্রতিবন্ধক) রাখা মুস্তাহাব, কারণ রাসুল (সা.) এর নির্দেশ দিয়েছেন।
‘যাও, আবার নামাজ পড়ো, কারণ তুমি নামাজ পড়োনি
নামাজের সূচনা ও কিরাত
নামাজ শুরু হয় তাকবিরে তাহরিমা-এর মাধ্যমে। মুসল্লি উভয় হাত কাঁধ বরাবর বা কান পর্যন্ত তুলে ‘আল্লাহু আকবার’ বলবেন। এটাই তাকবির। তাকবির বলার সময় দৃষ্টি থাকবে সিজদার স্থানের দিকে।
হাত বাঁধার সময় ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর ওপর রেখে নাভি বরাবর স্থাপন করা সুন্নাহ। (সহিহ ইবনে খুযাইমাহ, হাদিস: ৪৭৯)
এরপর শুরুতে সানা বা দোয়ায়ে ইস্তিফতা পাঠ করা সুন্নাত। এটি হল, “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গায়রুক।”
এরপর ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে সুরা ফাতিহা পড়তে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কিতাবের প্রারম্ভিক সুরা (ফাতিহা) পাঠ করে না, তার নামাজ হয় না।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫৬)
ফাতিহা শেষে সশব্দ নামাজে ইমাম ও মুক্তাদি উভয়েই ‘আমিন’ বলবেন। এরপর কোরআনের যা সহজসাধ্য তা তেলাওয়াত করবেন।
উত্তম হল, ফজরের নামাজে বড় সুরা, জোহর, আসর ও ইশার নামাজে মধ্যম মাপের সুরা এবং মাগরিবের নামাজে কখনও ছোট ও কখনও মধ্যম বা বড় সুরা তেলাওয়াত করা। আসরের নামাজ জোহরের চেয়ে হালকা হওয়া কাম্য।
রুকু ও কওমা: অবনত ও স্থিতিশীলতা
কোরআন তেলাওয়াত শেষে রুকুতে যাওয়ার সময় মুসল্লি ‘আল্লাহু আকবার’ বলবেন। রুকুতে মাথা পিঠের সমান্তরালে থাকবে এবং উভয় হাত হাঁটুতে রাখা হবে। আঙ্গুলগুলো হবে ছড়ানো। রুকুতে স্থিরতা বজায় রাখা জরুরি।
রুকুর তাসবিহ হল, “সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম” (মহাপ্রভুর পবিত্রতা ঘোষণা করছি), যা কমপক্ষে তিন বা ততোধিক বার বলা উত্তম।
এর সঙ্গে অতিরিক্ত দোয়া হিসেবে “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফির লি” (হে আল্লাহ! আমরা আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন) পাঠ করা মোস্তাহাব। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৯৬)
সিজদার সময় বেশি বেশি দোয়া করা মুস্তাহাব, কারণ রাসুল (সা.) বলেছেন, “বান্দা তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদা-অবস্থায়। তাই তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।
এরপর রুকু থেকে ওঠার সময় ইমাম বা একাকী নামাজ আদায়কারী ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ (আল্লাহ তার প্রশংসা শুনলেন, যে তাঁর প্রশংসা করল) বলবেন। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর সবাই বলবেন, “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ (হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার জন্য সকল প্রশংসা)।”
আরো বলতে পারেন, “হামদান কাসীরান ত্বাইয়্যেবান মুবারাকান ফীহি, মিলআস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরদি, ওয়া মিলআ মা বাইনাহুমা, ওয়া মিলআ মা শি’তা মিন শাইইন বা’দ” (প্রচুর, পবিত্র, কল্যাণময় প্রশংসা, যা আকাশ, পৃথিবী ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থান এবং আপনি যা কিছু চান, তা পূর্ণ করে দেয়)।
মুক্তাদিগণ রুকু থেকে ওঠার সময় কেবল ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ থেকে শেষ পর্যন্ত বলবেন। এই সময় পুনরায় হাত বাঁধার দরকার নেই।
সিজদা ও দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক
‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদায় যাওয়ার সময় সম্ভব হলে প্রথমে হাঁটু এবং এরপর হাত দু’টি মাটিতে রাখা উত্তম। যদি এতে কষ্ট হয়, তবে হাত আগে রাখা যেতে পারে।
সিজদা দিতে হবে সাতটি অঙ্গের উপর, কপাল (নাকের সঙ্গে), দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙ্গুলগুলোর ভেতরের অংশ। সিজদার সময় আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী ও মিলিত থাকবে।
সিজদার তাসবিহ হল, “সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা” (আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), যা কমপক্ষে তিন বা ততোধিক বার পাঠ করতে হবে।
সিজদার সময় বেশি বেশি দোয়া করা মুস্তাহাব, কারণ রাসুল (সা.) বলেছেন, “বান্দা তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদা-অবস্থায়। তাই তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২)
এছাড়া, সিজদার সময় কনুইকে পাঁজর থেকে, পেটকে উরু থেকে এবং উরুকে গোছা থেকে দূরে রাখা সুন্নাহ। হাত দুটিকে কুকুরের মতো মাটিতে বিছিয়ে দেওয়া নিষেধ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮২২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৯৩)
প্রথম সিজদার পর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে মাথা উঠিয়ে বসতে হবে। এসময় বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসবেন এবং ডান পা খাড়া করে রাখবেন। হাত দু’টি ঊরু ও হাঁটুর উপর থাকবে। এই বৈঠকেও স্থিরতা বজায় রাখা অপরিহার্য।
এই সময় দোয়া পড়তে হবে, “রাব্বিগফির লি, রাব্বিগফির লি” (হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করে দিন)।
অন্য বর্ণনায় দীর্ঘ দোয়া রয়েছে, “আল্লাহুম্মাগফির লি ওয়ার হামনি ওয়ার যুকনি ওয়া আ’ফিনি ওয়াহদিনী ওয়াজবুরনি” (হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে রিজিক দিন, আমাকে সুস্থতা দিন, আমাকে পথ দেখান এবং আমার ক্ষয়-ক্ষতি পূরণ করে দিন)। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৮৫০)
সাই/জা/জ