সর্বশেষ আপডেট
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নতুন সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান” উপকূল স্পেশালাইজড ডেন্টাল কেয়ারের উদ্যোগে বরগুনায় ওরাল হেলথ ও ডেন্টাল অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আর ডি এফ এর সেফগার্ডিং সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ চূড়ান্ত হলো ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দল, কোন গ্রুপে কে? কেএসডিও দিলো ২০০ পরিবারকে ইফতার সামগ্রী পাকিস্তানের সামনে আজ যে কঠিন সমীকরণ ঢাকা ও নরসিংদীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জাতি স্তম্ভিত: জামায়াত আমির রামপুরায় শিশু হত্যা: বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস নাহিদ ইসলামের

শবে মেরাজের তাৎপর্য ও ফযিলত

  • আপডেট হয়েছে : Friday, January 16, 2026
  • 125 বার দেখেছেন

অনলাইন ডেস্ক:

শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য খুবই তাৎপর্যময় একটি ঘটনা। যেদিন আল্লাহ তার হাবীবকে তাঁর কাছে ঢেকে নেন। সাক্ষাৎ দেন। তাঁর অপার্থিব নিদর্শনাবলী অবলোকন করান। জান্নাতের নাজ নেয়ামত দেখান। ভয়ংকর জাহান্নামও পরিদর্শন করান। সেই রাতে নবীয়ে মুহাম্মদ বায়তুল মাকাদিসে সমস্ত নবী রাসুলদের ইমাম হয়ে নামাজ আদায় করেন। বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের পর শুরু হয় ঊর্ধ্বজগতের সফর। জিবরাইল আ. এর সাথে প্রথম আসমানে প্রদার্পন করেন।
আসমানের ওপার থেকে জিজ্ঞেস করা হলো কে? বললেন, জিবরাইল। আবার প্রশ্ন হলো, সাথে কে? জিবরাইল উত্তর দিলেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তার কাছে কি আপনাকে পাঠানো হয়েছিল? বললেন, হ্যাঁ। আসমানের অধিবাসীরা নবীজির জন্য দরজা খুলে দেন। সম্ভাষন জানিয়ে বলেন, মারহাবা, উত্তম আগমনকারীর আগমন করেছেন। প্রথম আসমানে আমাদের আদি পিতা হযরত আদম আ. এর সাথে নবী করিম সা. কে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। রাসূলে আকরাম আমাদের পিতাকে সালাম বলেন। হযরত আদম জবাব দেন। নবীজিকে অভিবাদন জানান। বলেন, মারহাবা নেককার পুত্র, নেককার নবী। অত:পর হযরত আদম নবীজির জন্য দোয়া করেন।

দ্বিতীয় আসমান। প্রথম আসমানের মতো সেখানেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নবীজিকে স্বাগত জানিয়ে প্রবেশ করানো হয় দ্বিতীয় আসমানে। এখানে দেখা হয় দু’জন নবীর সাথে। যারা ছিলেন একে অপরের খালাতো ভাই। হযরত ঈসা আ. ও হযরত ইয়াহইয়া আ.। তাদের সাথে সালাম বিনিময় হয়। তারা নবীজিকে স্বাগত জানান। বলেন, আমাদের নেককার ভাই ও ন্যায়পরায়ণ নবী। তারাও নবীজির জন্য দোয়া করলেন।

এরপর নবীজি যান তৃতীয় আসমানে। ওখানেও প্রথম দুই আসমানের মতো কথোপকথন হয় এবং অভিবাবদন জানানো হয়। সেখানে দেখা হয় হযরত ইউসুফ আ. এর সাথে, দু’জনের সালাম ও কুশল বিনিময় হয়। রাসূলে আরাবী বলেন, ইউসুফ আ. কে মনে দুনিয়ার সব সৌন্দর্যের অর্ধেক দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে চতুর্থ আসমানে। পূর্বের ন্যায় সেখানেও কথাবার্তা হয়। স্বাগত জানানো হয়। সেখানে দেখা হয় হযরত ইদরিস আ. এর সাথে। এভাবে পঞ্চম আসমানে দেখা হয় হযরত হারুন আ. এর সাথে। ষষ্ঠ আসমানের যাওয়ার পর পূর্বের সব আসমানের মতো সেখানেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সেখানে দেখা হয় হযরত মূসা আ. এর সাথে। হযরত মূসা আ. দয়ার নবীকে অনেক আপ্যায়ন করেন। এভাবে সপ্তম আসমানে যাওয়ার পর সেখানে দেখা হয়, আমাদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম আ. এর সাথে। জিবরাইল আ. হযরত ইব্রাহীম আ. এর সাথে নবী মুহাম্মদ সা. কে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ইনি আপনার পিতা, সালাম করুন। রাসূলে আকরাম তাঁর সাথে সালাম বিনিময় করেন। নবী করিম সা. বলেন, সে সময় পিতা ইব্রাহীম বায়তুল মামুরে হেলান দিয়ে ছিলেন। যেখানে প্রতিদিন সত্তুর হাজার ফেরেশতা আসেন। এই সত্তুর হাজার আর ফিরে আসে না। এমনিভাবে প্রতিদিন সত্তুর হাজার করে ফেরেশতাদের নতুন নতুন দল আসতে থাকে। সেখান থেকে রাসূল সা. সিদরাতুল মুনতাহায় যান। তারপর সেই মহেন্দ্রক্ষণ, যখন দেখা হয় তাঁর রবের সাথে।

ফেরার সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর উম্মতের জন্য দিনেরাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দেন। নবীজি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এ হাদিয়া নিয়ে ফেরত আসছিলেন, পথিমধ্যে দেখা হযরত মূসা আ. এর সাথে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আপনার উম্মতের জন্য আল্লাহ কী দিয়েছেন? নবীজি বলেন, পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ। মূসা আ. বললেন, আপনার উম্মত দিনেরাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ পড়েতে পারবে না। আমি আপনার আগে উম্মত চালিয়ে এসেছি। আপনি গিয়ে কমিয়ে আনুন। রাসূল সা. ফিরে গিয়ে আল্লাহর কাছে নামাজের ওয়াক্ত কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন। আল্লাহ তা পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দেন। ফেরার পথে আবার মূসা আ. এর সাথে দেখা হলে, তিনি আরও ওয়াক্ত কমিয়ে আনার পরামর্শ দেন। নবীজি আবার আল্লাহর কাছে আরও কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করলে আল্লাহ আরও পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দেন। রাসূল সা. বলেন আমি এভাবে আল্লাহ ও মূসা আ. এর মাঝে যাওয়া আসা করতে থাকি।

শেষবার আল্লাহ বলেন, এই হল দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায। প্রত্যেক ওয়াক্তের বিনিময়ে দশ ওয়াক্ত নামাযের সাওয়াব। এভাবে বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সওয়াব পাবে। কেউ কোনো ভালো কাজের ইচ্ছা করবে কিন্তু করতে পারবে না, সেও নেকী পাবে। এক নেকী। আর যদি ভালো কাজটি করে তাহলে দশ নেকী। তবে, কেউ যদি কোনো মন্দ কাজের ইচ্ছা করে কোনো গুনাহ লেখা হবে না। তবে তা করে বসলে একটি গুনাহ লেখা হবে।

নবীজী এ উপহার নিয়ে ফেরত আসছিলেন। পথে আবার মূসা আ. এর সাথে দেখা হয়। মূসা আ. আরও কমিয়ে আনতে নবীজিকে পরামর্শ দেন। বলেন, আপনার উম্মত পারবে না। বনী ইসরাঈলের বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা আছে। নবীজী বললেন, আমার আর কিছু বলতে লজ্জা হচ্ছে! (সহীহ বুখারী : ৩৮৮৭)।

শবে মেরাজের পবিত্র রজনীতেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শেষ নবীর উম্মতের জন্য ফরজ করা হয়েছিল। সেই সাথে সেদিন আল্লাহর রাসূল তাঁর মহান রবের সাথে স্বশরীরে সাক্ষাতে যান। জান্নাত জাহান্নাম দর্শন করেন। ইসলামে তাই শবে মেরাজ একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে মেরাজের ফয়েজ বরকত হাসিল করার তাওফিক দান করুন।

এ বিভাগের আর খবর
Developed by:  ©২০২৬ জাগ্রত জনতা কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
error: Content is protected !!