অনলাইন ডেস্ক:
লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিতে পারেননি ব্যাটাররা। অল্প পুঁজি নিয়ে পেরে ওঠেননি বোলাররাও। দুই বিভাগেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্স পর্বে এসে থেমে গেছে বাংলাদেশের।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে সোমবার বাংলাদেশের ক রা ১৩৬ রান ১৫৫ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে ইংল্যান্ড।
২০২০ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা তিনটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিল বাংলাদেশের যুবরা।
তবে এখনই ছুটি পাচ্ছেন না আজিজুল হাকিমরা। আগামী শনিবার হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ খেলার আছে তাঁদের।
‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের কাছে হারের পর বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ডের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করে তারা। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকায় গ্রুপ রানার্স-আপ হয় বাংলাদেশ। এই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও নিউজিল্যান্ড সুপার সিক্সে উঠে। ফলে ভারতের কাছে হারের কারণে কোন পয়েন্ট পাবে না আজিজুল হাকিমের দল। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় ১ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্স খেলতে নামে বাংলাদেশ।
অন্য দিকে সুপার সিক্সের ২ নম্বর গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী ভারত ও ইংল্যান্ড এই পর্বটা শুরু করেছে ৪ পয়েন্ট নিয়ে। সুপার সিক্সে প্রতিটি দল অন্য গ্রুপ থেকে আসা দুটি দলের বিপক্ষে খেলবে। যার অর্থ প্রথম ম্যাচটি জিতলেই শুধু বাংলাদেশের সম্ভাবনা টিকে থাকত সেমিফাইনালে ওঠার।
চাপটা শেষ পর্যন্ত নিতে পারেনি বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮.১ ওভারে অলআউট ১৩৬ রানে।
ইনিংসের তৃতীয় বলে আউট হন ওপেনার জাওয়াদ আবরার। ৬ রান করেন তিনি। শুরুর ধাক্কা সামলে উঠতে দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার রিফাত বেগ ও অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। ৪৬ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৪টি চারে ৩১ রান তুলেন রিফাত।
একবারেরও জন্য বলকে সীমানা ছাড়া করতে পারেননি আজিজুল। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৬ বলে ২০ রান।
৭১ রানে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে আজিজুল ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৩৮.১ ওভারে ১৩৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৪৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় জুুনিয়র টাইগাররা।
মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন উইকেটরক্ষক মো: আব্দুল্লাহ ও শাহরিয়ার আহমেদ। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তারা। ৩ চারে আব্দুল্লাহ ২৫ এবং শাহরিয়ার আহমেদ ১টি বাউন্ডারিতে ১৮ রান করেন।
ইংলিশ পেসার সেবাস্তিয়ান মরগান ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন।
ইংল্যান্ডকে জয়ের জন্য ১৩৭ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে তৃতীয় ওভারেই উইকেট শিকারের আনন্দে মেতে উঠে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড ওপেনার জোসেফ মুরসকে ১ রানে আউট করেন পেসার আল ফাহাদ।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৩৬ রান যোগ করেন ইংল্যান্ডের আরেক ওপেনার বেন ডাউকিন্স ও বেন মায়েস। ইনিংসের নবম ওভার ডাউকিন্সকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন ফাহাদ। ২৭ রান করেন ডাউকিন্স। দলীয় ৩৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপ অনুভব করে ইংল্যান্ড।
তবে তৃতীয় উইকেটে ৭৮ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে লড়াই থেকে ছিটকে দেন মায়েস ও অধিনায়ক থমাস রিউ। ৩৪ রান করা মায়েসকে শিকার করে জুটি ভাঙ্গেন বাঁ-হাতি স্পিনার সামিউন বশির।
চতুর্থ উইকেটে রিউ ও কালিব ফ্যালকোনারের ২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয়ের স্বাদ পায় ইংল্যান্ড। এতে সেমিফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ।
ফাহাদ ২টি ও বশির ১টি উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৩৮.১ ওভারে ১৩৬ (জাওয়াদ ৬, রিফাত ৩১, আজিজুল ২০, কালাম ১০, রিজান ৯, আবদুল্লাহ ২৫, সামিউন ১, শাহরিয়ার ১৮, স্বাধীন ০, ফাহাদ ৫, ইকবাল ২*; মর্গ্যান ৭-০-২৮-৩, গ্রিন ৫-০-১৬-১, ফারহান ৯-২-৪০-১, মিন্টো ৭-২-১৭-১, অ্যালবার্ট ৪-০-১৫-২, লামসডেন ৬.১-১-১৮-২)
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ২৪.১ ওভারে ১৩৭/৩ (ডাউকিন্স ২৭, মুরস ১, মেইস ৩৪, রু ৫৯*, ফ্যালকোনার ৯*; ফাহাদ ৭-০-৩৭-২, সামিউন ৬.১-০-৩০-১, শাহরিয়ার ৩-০-১৮-০, ইকবাল ৩-০-১৫-০, স্বাধীন ১-০-১৫-০, আজিজুল ৩-০-১৭-০, জাওয়াদ ১-০-৪-০)
ফল: ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: টমাস রু