সর্বশেষ আপডেট
বরগুনার সেই এসিল্যান্ড ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও লেটার করায় প্রত্যাহার পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মুখস্থের সাফল্য, ষষ্ঠ শ্রেণিতে গিয়ে কেন ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীরা? বরগুনায় এমইপি গ্রুপের সহযোগী সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংরক্ষিত বনে কেওড়া গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা মামলায় ইউপি সদস্যসহ ৫ জন জেলে তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নতুন সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান” উপকূল স্পেশালাইজড ডেন্টাল কেয়ারের উদ্যোগে বরগুনায় ওরাল হেলথ ও ডেন্টাল অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আর ডি এফ এর সেফগার্ডিং সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ চূড়ান্ত হলো ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দল, কোন গ্রুপে কে?

তালতলীর টেংরাগিরি বন বিলীন হওয়ার পথে: বঙ্গোপসাগরের ভাঙনে বিপন্ন শত কোটি টাকার সম্পদ

  • আপডেট হয়েছে : Saturday, December 6, 2025
  • 942 বার দেখেছেন

জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, বরগুনা: 

উপকূলের উত্তাল ঢেউ ও তীব্র ভাঙনের কারণে বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন দ্রুত বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক ক্ষয়ে বঙ্গোপসাগরে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি এবং শত শত কোটি টাকার বনসম্পদ। অব্যাহত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বনের অস্তিত্বই হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬০ সালে বরগুনার টেংরাগিরি বনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে। স্থানীয়ভাবে ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত এই বনটির আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৭.০৩ একর। বনের পূর্বদিকে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আন্দারমানিক নদী, পশ্চিমে লালদিয়া, কুমিরমারাচর, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনা, উত্তরে সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া ও সখিনা খাল এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। স্বাসমূলীয় গাছের আধিক্যের কারণে পর্যটকদের কাছেও এটি অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের তীব্র আঘাতে বনের বিরাট অংশের গাছ উপড়ে মাটিতে পড়ে আছে। ভাটার সময় গাছগুলো দেখা গেলেও জোয়ারের সময় সেগুলো সাগরে হারিয়ে যায়। বনের ভেতরে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় গাছের গোড়ার মাটি সরে গেছে; যাদের যেকোনো সময় উপড়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরজুড়ে কোটি টাকার বনসম্পদ সাগরে ভেসে যায়।

বনভূমি সঙ্কোচনের পাশাপাশি বনদস্যুদেরও চরম দৌরাত্ম্য রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু চক্র দিনের বেলায় গভীর বনে গাছ কেটে রাতের অন্ধকারে ট্রলারে করে পাচার করে থাকে। এসব গাছ ইটভাটা ও কাঠবাজারে চলে যায়। উপড়ে পড়া গাছও তারা অবৈধভাবে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার আঘাতে বনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তারপর থেকেই ভাঙনের হার বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে ধুন্দল, কেওড়া, গেওয়া, হেতাল ও রেন্ট্রি প্রজাতির বিপুল পরিমাণ গাছ ইতোমধ্যে নষ্ট হয়েছে।

পটুয়াখালী বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ আমির হোসেন দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট হওয়া গাছগুলো সরানো হচ্ছে না। এই মরা গাছগুলো ঢেউয়ের প্রভাব যাতে উপকূলে না পড়ে তার জন্য বনের ভিতর রাখা হয়। তবে অসাধু ব্যক্তিরা যে বন উজাড় করছে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। যদি কোন অভিযোগ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরো জানান, টেংরাগিরি বনের ভাঙনরোধে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়া কমাতে ঝাউসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ ঘন করে লাগানো হচ্ছে।

এদিকে পর্যটন খাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বনের জৌলুস হারানোর কারণে পর্যটকের আগ্রহ কমছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, বনের বিলীন হওয়া উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। তারা টেকসই তটরক্ষা বাঁধ ও জোরদার নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

দেশের অন্যতম এই উপকূলীয় বনটিকে টিকিয়ে রাখতে এখনই জরুরি এবং সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন, এমন অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

শাহ্/জা/জ
এ বিভাগের আর খবর
Developed by:  ©২০২৬ জাগ্রত জনতা কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
error: Content is protected !!