উপকূলের উত্তাল ঢেউ ও তীব্র ভাঙনের কারণে বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন দ্রুত বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক ক্ষয়ে বঙ্গোপসাগরে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি এবং শত শত কোটি টাকার বনসম্পদ। অব্যাহত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বনের অস্তিত্বই হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
পাকিস্তান সরকার ১৯৬০ সালে বরগুনার টেংরাগিরি বনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে। স্থানীয়ভাবে ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত এই বনটির আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৭.০৩ একর। বনের পূর্বদিকে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আন্দারমানিক নদী, পশ্চিমে লালদিয়া, কুমিরমারাচর, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনা, উত্তরে সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া ও সখিনা খাল এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। স্বাসমূলীয় গাছের আধিক্যের কারণে পর্যটকদের কাছেও এটি অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।
বনভূমি সঙ্কোচনের পাশাপাশি বনদস্যুদেরও চরম দৌরাত্ম্য রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু চক্র দিনের বেলায় গভীর বনে গাছ কেটে রাতের অন্ধকারে ট্রলারে করে পাচার করে থাকে। এসব গাছ ইটভাটা ও কাঠবাজারে চলে যায়। উপড়ে পড়া গাছও তারা অবৈধভাবে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
পটুয়াখালী বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ আমির হোসেন দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট হওয়া গাছগুলো সরানো হচ্ছে না। এই মরা গাছগুলো ঢেউয়ের প্রভাব যাতে উপকূলে না পড়ে তার জন্য বনের ভিতর রাখা হয়। তবে অসাধু ব্যক্তিরা যে বন উজাড় করছে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। যদি কোন অভিযোগ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরো জানান, টেংরাগিরি বনের ভাঙনরোধে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়া কমাতে ঝাউসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ ঘন করে লাগানো হচ্ছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, বনের বিলীন হওয়া উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। তারা টেকসই তটরক্ষা বাঁধ ও জোরদার নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।