অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে কেন্দ্রীয় অভিবাসন (আইসিই) কর্মকর্তাদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং কঠোর অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামক এই অভিযানের ফলে শহরটি বর্তমানে উত্তাল।
শহরটিতে প্রায় ৩,০০০ কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২,০০০ জন আইসিই সদস্য এবং শত শত বর্ডার পেট্রোল এজেন্ট রয়েছে। স্থানীয় পুলিশের তুলনায় এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।
সম্প্রতি রেনি নিকোল গুড নামে এক মার্কিন নাগরিক কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এরপর থেকেই শহরে কর্মকর্তাদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়রা এই পরিস্থিতিকে ‘বিদেশি আক্রমণের’ সাথে তুলনা করছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, মুখোশধারী কর্মকর্তারা দরজায় দরজায় গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন, সাধারণ মানুষের ওপর পিপার স্প্রে ব্যবহার করছেন এবং গাড়ি ভাঙচুর করে সন্দেহভাজনদের আটক করছেন। অনেকে একে ‘নাৎসি জার্মানির’ পরিস্থিতির মতো ভয়ংকর বলে বর্ণনা করেছেন।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই পরিস্থিতিকে ‘অসম্ভব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা শহরটিকে একটি সংঘাতপূর্ণ স্থানে পরিণত করছে। সিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে আইসিইকে অবিলম্বে শহর ও অঙ্গরাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই অভিযানের সমর্থন করে বলেছেন যে, অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে এই ‘ডোর-টু-ডোর’ (দ্বারে দ্বারে) অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি সুরক্ষারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সাধারণ মানুষ হুইসেল বাজিয়ে বা হর্ন দিয়ে একে অপরকে সতর্ক করছেন যখনই আশেপাশে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের দেখা যাচ্ছে। পুরো শহর বর্তমানে এক অস্থির ও ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: এনবিসি।