সর্বশেষ আপডেট
তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নতুন সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান” উপকূল স্পেশালাইজড ডেন্টাল কেয়ারের উদ্যোগে বরগুনায় ওরাল হেলথ ও ডেন্টাল অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আর ডি এফ এর সেফগার্ডিং সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ চূড়ান্ত হলো ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দল, কোন গ্রুপে কে? কেএসডিও দিলো ২০০ পরিবারকে ইফতার সামগ্রী পাকিস্তানের সামনে আজ যে কঠিন সমীকরণ ঢাকা ও নরসিংদীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জাতি স্তম্ভিত: জামায়াত আমির রামপুরায় শিশু হত্যা: বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস নাহিদ ইসলামের

ইউনিলিভার, যুক্তরাজ্য সরকার ও ইওয়াই-এর যৌথ উদ্যোগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন

  • আপডেট হয়েছে : Friday, January 16, 2026
  • 134 বার দেখেছেন

অনলাইন ডেস্ক:

এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করা ইমপ্যাক্ট অ্যাক্সেলারেটর ট্রান্সফর্ম তাদের এক দশকেরও বেশি সময়ের যৌথ উদ্যোগের মাইলফলক উদযাপন করেছে। ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে ট্রান্সফর্ম ১৩টি এন্টারপ্রাইজকে সহায়তা দিয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ী, কর্মী, গ্রাহক এবং বৃহত্তর কমিউনিটির মানুষসহ মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৩ জনের জীবনে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

ট্রান্সফর্ম-এর সহায়তায় সংশ্লিষ্ট এন্টারপ্রাইজগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের জন্য বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য সুফল তৈরি করতে পেরেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২২ সালের পর থেকে ৩৯ হাজারের বেশি মানুষ এসব এন্টারপ্রাইজের পণ্য ও সেবার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। একই সঙ্গে, গত এক দশকে এসব উদ্যোগ পরবর্তী ধাপে ১৫৬ কোটি টাকার বেশি অর্থায়ন সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স পরিচালক শামিমা আক্তার বলেন, “বাংলাদেশে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়ে কাজ করছেন—কখনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়, কখনো কর্মসংস্থান ও জীবিকায়নের সুযোগ তৈরিতে। তারা যে কমিউনিটির মধ্যে কাজ করেন, সেখানেই নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকার ফলে স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী টেকসই সমাধান তৈরি করতে পারছেন। তাদের কিছু উদ্যোগ ইউনিলিভারের নিজস্ব সাপ্লাই চেইনেও যুক্ত হয়েছে, যা উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও দীর্ঘস্থায়ী আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্লাস্টিক ও জীবিকায়ন–সংক্রান্ত আমাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে অবদান রাখছে।”

এন্টারপ্রাইজ উদ্যোগে আলোকপাত বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে ট্রান্সফর্ম সংশ্লিষ্ট এন্টারপ্রাইজগুলোর সঙ্গে কাজ করে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

• হ্যাপিট্যাপ: স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য বহনযোগ্য হাত ধোয়ার সিঙ্ক সহজলভ্য করে স্বাস্থ্যবিধি চর্চার ক্ষেত্রে বড় বাধাগুলো কমাতে কাজ করছে এই উদ্যোগ। স্থানীয় উৎপাদন অংশীদারিত্ব ও লক্ষ্যভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রচারের মাধ্যমে হাত ধোয়ার অভ্যাসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে বাড়িতে ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ৬ লাখের বেশি মানুষ নিয়মিত হাত ধোয়ার সুযোগ পেয়েছেন।• দেশিফার্মার: জলবায়ু-সহনশীল কৃষি চর্চা এগিয়ে নিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও উপকরণ দিয়ে সহায়তা করছে এই উদ্যোগ। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের বাজারে তাদের প্রবেশাধিকার বাড়ানো হচ্ছে। প্রথম বছরেই এই কার্যক্রমে ৩ হাজার কৃষক ও ২০ হাজার ভোক্তা উপকৃত হয়েছেন।

জীবনযাত্রা রূপান্তরে শিল্পখাত ও সরকারের সম্মিলিত প্রয়াস ইউনিলিভার, যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং ইওয়াই-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচিটি সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্বের একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদাহরণ। অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের পাশাপাশি অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক একত্র করে ইমপ্যাক্ট এন্টারপ্রাইজগুলোকে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবসায় রূপ নিতে সহায়তা করা হচ্ছে।

গত এক দশকে এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে ১৪০টির বেশি ইমপ্যাক্ট এন্টারপ্রাইজকে সহায়তা দিয়েছে এবং ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে—যা ২০২৩ সালের তুলনায় মাত্র দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া, ইউনিলিভার ও ইওয়াই-এর ৭৫০ জন কর্মী তাদের পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে এন্টারপ্রাইজগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছেন২০২৩ সাল থেকে ৭টি আঞ্চলিক উদ্যোগ আয়োজন করা হয়েছে নতুন এন্টারপ্রাইজ বাছাইয়ের জন্য, যেখানে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ের সহকর্মীদের হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইওয়াই-এর গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর বিভাগের পার্টনার প্রাগ্যাল সিং বলেন, “দশ বছরের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, ট্রান্সফর্ম-এর এই যৌথ মডেল আমাদের সম্মিলিত সক্ষমতার শক্তিকে তুলে ধরে। ইওয়াই-এর জনবল, জ্ঞান ও নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবসায়িক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলেই বাংলাদেশের এন্টারপ্রাইজগুলো ১৫৬ কোটি টাকার বেশি পরবর্তী পর্যায়ের অর্থায়ন সংগ্রহ করতে পেরেছে এবং তাদের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করতে সক্ষম হয়েছে। সবার জন্য একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত।”

এ বিভাগের আর খবর
Developed by:  ©২০২৬ জাগ্রত জনতা কর্তৃক সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
error: Content is protected !!